রাতের একপ্রহর কেটে গেলে শুরু হয় দুজন কপোত-কপোতীর ভালবাসার গভীরে ডুবে যাওয়া। দুজনের ভাবনায় থাকে আজীবনন এভাবেই যেনো মিশে থাকতে পারে দুজন-দুজনার সাথে। তাদের মনে না পড়া গল্প আর বারবার একই কথা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলার মাঝে কখন যেনো রাতটা শেষের দিকে চলে যায়। সারাদিন নানা যায়গায় ঘুরে বেড়ানো আর খাটাখাটুনির পর রাতে তাদের এই গোপন অভিসার চলে।
রাত যখন আরো গভীর হয়, তখন এক রকম আড়ষ্টতা উভয়কে অথবা একজনকে আঁকড়ে ধরে। কিন্তু অপরজনের কষ্টের কথা ভেবে বলতে পারেনা কিছুই।
মনে মনে গাইতে থাকে -
"ঘুমটা আমার বাবু সোনা
আর আসিস না আমার ধারে,
রাত্র তুমি বন্ধু শোনো
আর কিছুক্ষণ থেকে যাও আমার তরে।
সকাল তুমি রেস্ট নিয়ে নাও
দূর করে নাও ক্লান্তি যত
উদয় হলে থাকবেনা কেও
দুঃখে ভারি আমার মত...."
এক সময় ঘুমে আর সইতে না পেরে কারো মোবাইল হাত ফসকে পড়ে যায়। আর কারো কীবোর্ডে লেখা থাকে হাজার হাজার একই অক্ষর- জ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞজ্ঞ......
হয়তো ঘুমের নড়াচড়ায় সেখানে রচিত হয় অন্য কোনো অক্ষরের সহাবস্থান।
আর ভোর হলেই সব স্পষ্ট হয়ে যায়, যা হবার, তা হয়ে গেছে।
অপরদিকে কারো অনুপস্থিতি অনুভব করে চোখের কোণে অশ্রু জমিয়ে অর্ধশত মেসেজ সেন্ট করে কেউ একসময় ক্লান্ত শরীরকে এলিয়ে দেয় বিছানায়। আর শেষ মুহূর্তগুলোতে মনে মনে আওড়িয়ে যায়-
"নিকষকালো রাত্রি হে দীর্ঘ কেন তুমি
দেখছো না হয়েছি আজ বড্ড একা আমি
সকাল দিয়ে তোমার চাদরে নাওনা ঢেকে আমায়
যেমনি হোক সে তবু জেনো তোমার মত কভু নয়"
তাদের মাঝের এই অনুভূতিটা বড্ড মধুর আবার অনেক বেদনার। এতে যেমন আনন্দের রেশ জমে থাকে অনেকরাত আবার কষ্টেরা কাঁদিয়ে গিয়ে বানায় প্রভাত।
এই ভালবাসাগুলো পবিত্রতায় ভরে উঠুক। সমস্ত পঙ্কিলতা ঝেড়ে সফেদ বর্ণ ধারণ করুক।
No comments:
Post a Comment